মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১,  ১৩ আশ্বিন ১৪২৮,  Tuesday, September 28, 2021


দ্যা বাংলা টাইম

আপডেট : 2 weeks ago

Tue, Sep 14, 2021 8:10 AM

 

গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য বিলুপ্ত প্রায় নৌকা বাইচ খেলা

Card image cap

লালমনিরহাট আবহমান গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহি খেলা নৌকা বাইচ খেলা।  এই খেলা গ্রাম-গঞ্জ হতে প্রায় বিলুপ্তির পথে চলে গিয়ে ছিল।  এর প্রধান কারণ নদীগুলো সংস্কারের অভাবে শুকিয়ে যাওয়া।  নদ-নদীতে পানি না থাকায় জীববৈচিত্র হারিয়ে যাওয়া।  নদ-নদীর প্রাকৃতিক পরিবেশ বিনষ্ট হয়ে যাওয়া।  বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার যুগোপযুগি পদক্ষেপ নদী পুণখনন ও সংস্কার গ্রামের প্রতিটি নদ-নদীতে পূর্ণ যৌবন ফিরিয়ে দিয়েছে।  আবারও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে নৌকা বাইচ খেলা। 

লালমনিরহাট জেলায় ছোট বড় প্রায় ১৩টি নদ-নদী রয়েছে।  এগুলো হচ্ছে তিস্তা, ধরলা, সতী, স্বর্ণামতি, ভ্যাটেশ্বরী, রত্নাই, সানিয়াজান, সাঁকোয়া, মালদহ, ত্রিমোহিনী, গিরিধারী, ছিনাকাটা, ধলাই প্রভুতি।  নদ-নদী বেষ্টিত জেলা লালমনিরহাটে এক সময় বর্ষা মৌসুমে নৌকাবাইচ খেলা ছিল খুব জনপ্রিয়।  নৌকা বাইচ খেলায় পুরস্কার দেয়া হতো গরু, টিভি ও নগদ অর্থ।  নৌকা বাইচ খেলার প্রস্তুতি নিতে সারা বছর নদ-নদীতে নৌকা নিয়ে গ্রামের তরুন যুবকরা মেতে থাকত।  নানা বাহারি রংগের নৌকা সারা বছর পরিচর্যা করা হতো।  নৌকা বাইচে যারা বিজয় অর্জন করতো তাদের ছিল ১০ গ্রামে নাম ডাক।  তারা ছিলেন অত্যন্ত সম্মানিত।  

নৌকা বাইচ ছিল গ্রামের মানুষের আনন্দের খোরাক। এ ই নৌকাবাইচ খেলা দেখতে নদ-নদীর পাড়ে ভিড় জমাত গ্রামে কিশোর কিশোরী বয়ঃবৃদ্ধ, নারী পুরুষ।  হাজার হাজার সাধারণ মানুষের প্রত্যক্ষ অংগ্রহণ ছিল দেখার মত।  ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে নৌকা বাইচ খেলা উপলক্ষ্যে নদী পাড়ে  গ্রামীণ মেলা বসে যেত।  ১০ গ্রামের শতশত নৌকা বাইচের দল নানা ধরনের বাইচে অংশ নেয়া নৌকা নিয়ে নৌকা বাইচ খেলায় বা প্রতিযোগিতায় অংশ নিতেন।  নৌকা বাইচ খেলা নিয়ে শুরু হয়ে যেত গ্রামীণ উৎসব। 

লালমনিরহাট জেলার সদর উপজেলার বড়বাড়ী ইউনিয়নের বড়বাশুরীয়া এলাকায় ধরলা নদীর পাড়ে নৌকাবাইচের আয়োজন করেছিল স্থানীয় নৌকাবাইচ কমিটি।  যে গ্রামে খেলা হত সেই গ্রামের জামাই ঝিরা এই নৌকা খেলার দিন বেড়াতে যেতেন।  আত্নীয় স্বজনদের নৌকা বাইচ উপলক্ষ্যে মিলন হতো।  নৌকা বাইচ ছিল গর্বের ধন।  এখন সেই খেলা প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল।  সেই খেলা ফিরে এসেছে।  শেখ হাসিনার সরকারের আমলে। 

শেখ হাসিনার সরকারের আমলে সবখানে ব্যাপক উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে।  গ্রামীণ ঐতিহ্যকে ধারণ করে তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন জীবিকা।  সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থানের।  নদ-নদীগুলো পর্যটনকে আকর্ষণ করছে।  নদী কেন্দ্রীক পর্যটক বেড়েছে।  এমন একটি প্রতিযোগীতা লালমনিরহাট জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা নৌকার দল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে।  পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে শেষ হয় নৌকাবাইচ।

নৌকা বাইচ খেলার সাথে গ্রাম বাংলার কৃষিজ অর্থনৈতিক সম্পর্ক আছে।  গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী এ নৌকাবাইচ খেলাকে ঘিরে বর্ষা মৌসুমের কয়েক মাস থাকে ১০ গ্রামের মানুষের প্রস্তুতি মূলক আযোজন।  খেলা দেখতে দূর-দূরান্ত হতে ভিন গ্রামের মানুষ আসে।  বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ সমাগমে মেলা বসে।  সেখানে গ্রামমীণ পন্য বিক্রি হয়।  নানা স্বাদের গ্রামের ঐতিহ্যবাহী  খাবার দাবার তৈরী হয়।  গ্রামীণ গৃস্থলীর উরুন, গাইন, ঢেঁকি, কৃষি যন্ত্রপাতি, তৈজসপত্র, প্রসাধনি সহ লাখ লাখ টাকার পন্য বিক্রি হয়।  নৌকাবাইচ ঘিরে আশেপাশে নদী পাড়ে বসত ২/৩ দিনের গ্রামীণ ঐতিহাসিক জারিগান, সারি গান, যাত্রা পালা, কুশানগান, ঘেটু গান, কত কি।  এতে করে সেখানে গ্রামীণ শিল্পীদের আয়ের উৎস হয়ে থাকত।  এতে করে গ্রামীণ অর্থনীতিতে চাঙ্গা ভাব থাকত সারা বছর। 

তারুণ্যের জয়।  তারুণ্য এগিয়ে নিবে আগামীর বাংলাদেশ।  আগামীর গ্রামীণ ঐতিহ্যগুলো।  নানা ধরনের গ্রামীণ খেলাগুলো এখন তরুণদের কাছে জয়প্রিয় হয়ে উঠছে।  তাঁতে যোগ হয়েছে দেশের প্রযুক্তি নির্ভর মাল্টি বিজনেস প্রতিষ্ঠান বা করপোরাল বিজনেস প্রতিষ্ঠান।