মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১,  ১৩ আশ্বিন ১৪২৮,  Tuesday, September 28, 2021


দ্যা বাংলা টাইম

আপডেট : 2 weeks ago

Fri, Sep 10, 2021 8:17 PM

 

মঙ্গলগ্রহে প্রথম কোন বাংলাদেশী জমি কিনেছে লালমনিহাটের কম্পিউটার প্রকৌশলী

Card image cap

মঙ্গল গ্রহে জমি কেনার দাবি করেছে তরুণ কম্পিউটার প্রকৌশলী এলাহান উদ্দিন।  মাত্র ৫০ ডলারের বিনিময়ে মঙ্গল গ্রহে জমির মালিকানা কিনেছে।  তার বাড়ি লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের বোদলা গ্রামের মোঃ খায়রুল ইসলামের পুত্র কম্পিউটার প্রকৌশলী এলাহান উদ্দিন।  এই জমি কিনতে তার খরচ হয়েছে মাত্র ৫০ ডলার।  যার  বাংলাদেশি মুদ্রায় মান হচ্ছে ৪ হাজার ২৫০ টাকা।  এই প্রকৌশলীর দাবি গত আগস্ট মাসে মঙ্গল গ্রহে এক একর জমি কিনেছে।  গত মাসের ৭ আগষ্ট মঙ্গলবার ইন্টারন্যাশনাল কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে মঙ্গল গ্রহে ক্রয় করা এক একর জমির মালিকানার দলিল দস্তাবেত তার হাত এসে পৌচ্ছায়।  গুগুল ম্যাপেও উল্লেখ রয়েছে কোথায় আছে তার জমি।  ক্রয় করা জমি বাংলাদেশি বিজ্ঞানীদের গবেষণার কাজে উৎসর্গ করেছে এই তরুণ কম্পিউটার প্রকৌশলী।

মঙ্গল গ্রহে জমি কেনার খবর শুনে ১০ সেপ্টেম্বর তরুণ কম্পিউটার প্রকৌশলী এলাহান উদ্দিনের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হয়।  এসময় তিনি জানান,  তথ্য প্রযুক্তি সারা বিশ্বে কোথাও থেমে নেই।  প্রতি মিনিটে কোথাও না কোথাও মানুষ তথ্য প্রযুক্তির নতুন নতুন বিষয় আবিস্কার করছে।  আগামী বিশ্বে সকল ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেবে তথ্য প্রযুক্তি।  এই প্রযুক্তির বড় সাফল্য হচ্ছে মঙ্গল গ্রহে সফলভাবে অবতরণ করতে পেরেছে নাসার মার্স ২০২০ পারসিভারেন্স রোভারটি। 

নাসার  বিজ্ঞানীগণ পৃথিবীতে বসেই মঙ্গল গ্রহে মানুষের বসবাসের উপযোগী করে গড়ে তুলতে ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে।  ইতিমধ্যে বাংলাদেশের কৃষিজ ফসল ধনে বীজ মঙ্গলে রোপনের জন্য পাঠানো হয়েছে।  একদল বিজ্ঞানী গবেষণা করেঘোষণা দিয়েছে মঙ্গল গ্রহে পৃথিবীর মত আলো, বাতাস ও পানি রয়েছে। 

এই মঙ্গল গ্রহের রং লালছে।  মঙ্গল গ্রহ পৃথিবীর মানুষের জন্য আগামীর বাসস্থান হতে পারে।  মানুষের বেঁচে থাকার মত সকল সুযোগ সুবিধা মঙ্গল গ্রহে রয়েছে।  তারপরেও গবেষণা করে দেখা হচ্ছে মানুষের অনুকুল পরিবেশ কতটা উপযোগী।  মঙ্গল গ্রহে অন্য কোন ভিনজাতি প্রাণি রয়েছে কি’না পৃথিবীর মানুষ নিশ্চিত হতে পারেনি।  তাই ব্যাপক গবেষণা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।  প্রতিনিয়ত সন্ধান চলছে।  মঙ্গল গ্রহ নিয়ে পৃথিবীর মানুষের আগ্রহের শেষ নেই।  বিজ্ঞানীদের এই কাজের সাক্ষী হয়ে থাকতে বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে মঙ্গল গ্রহে জমি কিনেছি।  এতে করে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা মঙ্গল গ্রহের একজন গর্বিত অংশিদার হবে বলে মনে করেন।  

মঙ্গল গ্রহের গবেষণায় কাজ করছে বিখ্যাত বিজ্ঞানীগণ। 

নাসায় বাংলাদেশের বিজ্ঞানী প্রকৌশলী এরশাদ বহু বছর আগে থেকে সেখানে গবেষণা করছেন।  বাংলাদেশী এই বিজ্ঞানী বুয়েটে প্রায় দুই যুগের বেশী সময় আগে রেকর্ড নম্বর নিয়ে কৃতিত্বেও সাথে পাশ করে।  তার রেকর্ড এখনো পর্যন্ত কেউ ছুঁতে পারেনি।  এসব বিজ্ঞানীর মাধ্যমে বাংলাদেশের নাম সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে।  লালমনিরহাট জেলার নাম ও বাংলাদেশের নাম সারা বিশ্ব গবেষণার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ুক মঙ্গল গ্রহে জমি কেনার মূল লক্ষ্য ছিল। 

এই দেশে ডক্টর ওয়াজেদ স্যারের মত পরমাণু বিজ্ঞানীর জন্ম হয়েছে।  বাঙ্গালীরা সেটা মনে প্রাণে বিশ্বাস করে।  একদিন সোনার বাংলাদেশ মাথা তুলে দাঁড়াবে।  তখন গর্বিত জাতি হিসেবে বিশ্ববাসী গর্ব অনুভব করবে।  তাই একজন বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে পিছিয়ে থাকতে চাইনি। 

শেখ হাসিনার সরকার বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের স্যাটেলাইট পাঠিয়ে সর্বাধুনিক আকাশ প্রযুক্তিতে নাম লিখিয়েছে।  এটা বিশ্বেও কত দেশ পেয়েছে।  অনেক সমৃদ্ধশালী দেশে এখনো আকাশে স্যাটেলাইট পাঠাতে পারেনি কিন্তু বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের সফল উৎক্ষেপন করেছে।  এখন বাংলাদেশর মানুষ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের সকল সুযোগ সুবিধা ব্যবহার করেছে।  খুব বেশী দুরে নয়।  একদিন মঙ্গলগ্রহেও পা রাখবে বাংলাদেশিরা।  বাংলাদেশের বিজ্ঞানী এরশাদ নাসায়  বিজ্ঞানী হিসেবে কাজ করছে।  তিনিও তো কোন দিন মঙ্গল গ্রহে পা রাখতে পারেন।  তখন যদি তিনি শুনেন বাংলাদেশের নাগরিক কোন একজন মঙ্গল গ্রহে জমি কিনেছে গর্ববোধ করবেন।  তাই গবেষণার কাজে উৎসর্গ করেছি মঙ্গল গ্রহে ক্রয় করা জমি।  মুলত গবেষণা কাজের অর্থযোগান দিতে এই জমি ক্রয় করা।  সামান্য অর্থ হতে পারে কিন্তু এর ব্যাপ্তি ব্যাপক। 

চন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদের  চেয়ারম্যান মোঃ  জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, চন্দ্রপুর গ্রামের ছেলের মঙ্গল গ্রহে জমি কেনার বিষয়টি মানুষের মুখে মুখে জেনেছি।  তরুণ কম্পিউটার  প্রকৌশলী এলাহান উদ্দিন একজন মেধাধী ছাত্র হিসেবে তাঁকে চিনি।  তথ্য  প্রযুক্তির এই  যুগে সবই সম্ভব।  চাঁদে জমি বিক্রি হয়েছে শুনেছি।  মঙ্গল গ্রহে জমি বিক্রি হয়েছে তাও শুনেছি।  তাই তার মঙ্গল গ্রহে জমি কেনার বিষয়টি সত্য হওয়া অসম্ভব নয়।  শুনেছি মঙ্গল গ্রহে পর্যটক পাঠাবে বিজ্ঞানীরা।

চন্দ্রপুরের অধিবাসী প্রবীণ সাংবাদিক মোঃ আব্দুল আলিম জানান, জেলার  কালীগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের বোদলা  গ্রামের মোঃ  খায়রুল ইসলামের ছেলে কম্পিউটার প্রকৌশলী এলাহান উদ্দিন।  মোঃ  খায়রুল ইসলামের  তিন ছেলে।  তার মধ্যে কম্পিউটার  ইঞ্জিনিয়ার এলাহান উদ্দিন সবার ছোট।  বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সেস থেকে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে বিএসসি  ও  জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসসি ডিগ্রি লাভ করেছে।  প্রকৌশলী এলাহান উদ্দিন বর্তমানে আইসিটি এমপ্লোয়ি সোসাইটি অব বাংলাদেশের (আইসিটিইএসবি) পরিচালক ও সফটওয়্যার  প্রকৌশলী।

এদিকে বিজ্ঞান বিষয়ে যারা খবর রাখেন তাদের মাধ্যমে এক তথ্যে জানা গেছে, বলিউডের প্রয়াত অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুত, অভিনেতা শাহরুখ খান সহ অনেকেই চাঁদে জমি কিনে চাঁদের জমির মালিক হয়েছে।  মানুষ চাঁদে পৌচ্ছে।  চাঁদে মানুষ বসবাস করার স্বপ্ন দেখছে।  চাঁদের ভূ উপগ্রহের স্পেস যানে কৃত্রিম উপায়ে ফসল ফলাতে পরীক্ষা করছে বিজ্ঞানীরা।  সেখানে বীজের অংকুর গজিয়ে উঠার ছবি তো সারা বিশ্বে তোলপাড় ফেলে দিয়েছিল। চাঁদে বাযু নেই।  পানি নেই।  মানুষের বসবাসের কোন সম্ভাবনা নেই।  এই পরিবেশে প্রাণির অস্তিত কল্পনা করা যায় না।  আলো, বাতাস ও পানি ছাড়া কোন প্রাণি বেঁচে থাকতে পারেনা।  তাই নতুন খবর হচ্ছে চাঁদকে মানুষের বসবাস যোগ্য করার সম্ভবনা খুব ক্ষিণ।  তাই চাঁদকে ছাপিয়ে মানুষের নজর এখন মঙ্গল গ্রহে বসবাসের দিকে। 

মঙ্গল গ্রহে জমি কেনার তালিকায় তাই বাংলাদেশি প্রকৌশলী এলাহান উদ্দিন।  প্রকৌশলী এলাহান উদ্দিন জানান,  মঙ্গল গ্রহে জমি কিনেছে যে, প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে।  সেই  প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এর আগে সাবেক তিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিুউ বুশ, জিমি কার্টার ও রোলান্ড রিগ্যান চাঁদে জমি কিনেছে (সূত্র- ইউএসনিউজ)।  এই  প্রতিষ্ঠানের মালিক ডেনিস হোপ।  ডেনিস হোপের সঙ্গে যোগাযোগ করে ইন্টারন্যাশনাল মানি ট্রান্সফার গেটওয়ের মাধ্যমে মাত্র ৫০ ডলারের (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪২৫০ টাকা) বিনিময়ে মঙ্গল গ্রহে জমি কিনেছে।  ২০২৩ সাল নাগাদ মঙ্গল গ্রহে অভিযানে মানুষ পাঠানো হবে।  এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছে নেদারল্যান্ডসের কোম্পানি ‘মার্স ওয়ান’।

প্রথম দফায় চারজন মানুষ যারা বিজ্ঞানী নয় পর্যটক হিসেবে মঙ্গল গ্রহে যাওয়ার সুযোগ পাবে। 

মঙ্গল গ্রহে জমি কিনতে এখন পর্যন্ত আবেদন করেছে দুই লাখের বেশি মানুষ ও প্রতিষ্ঠান।  এই সব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানে মধ্যে এক লাখ ৫৮ হাজার জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা করা হয়েছে।  পরিকল্পনা অনুসারে, আবেদনকারীদের মধ্যে থেকে প্রথম ৪০ জনকে নির্বাচন করা হবে।  প্রশিক্ষণ শেষে চূড়ান্তভাবে চারজন মানুষকে যাচাই বাছাই করে মঙ্গল গ্রহে ভ্রমণে পাঠানো হবে।  এটা হবে প্রথিবীর বুকে কোন স্পেস অভিযানে সাধারণ মানুষের ভ্রমণের সুযোগ দেয়া। 

এদিকে জাপান অপটিক্যাল ফাইবারের মাধ্যমে মঙ্গল ও চাঁদে যোগাযোগ স্থাপনে ঝুলন্ত রাস্তা তৈরি গবেষণায় সফলতার দাবী করেছে।  এই অপটিক্যাল ফাইবার দিয়ে তৈরী রাস্তায় বিশেষ দ্রুত গতির রকেট কে লিফটের মত ব্যবহার করা হবে।  এতে করে পণ্য ও মানুষ চাঁদে ও মঙ্গলে যাতায়াতের খরচ কয়েক গুন হ্রাস পাবে।  চাঁদে ও মঙ্গলে যাওয়ার  সময়ও কয়েক গুণ হ্রাস পাবে।  ঝুলন্ত এই অপটিক্যাল ফাইবারের রাস্তাটির এক প্রান্ত ভূমিতে অন্য প্রান্ত থাকবে আকাশে স্পেস ষ্টেশনের পাঠাতনের সঙ্গে সংযুক্ত।  আধুনিক এই বিশ্বে মানুষের বিচিত্র আবিস্কার সব ধরণের অসম্ভব কে সম্ভব করে ফেলছে।