বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন, ২০২১,  ৩ আষাঢ় ১৪২৮,  Thursday, June 17, 2021


দ্যা বাংলা টাইম

আপডেট : 1 week ago

Wed, Jun 9, 2021 12:46 PM

 

শরনখোলার পাঁচশত শিক্ষক ১৩তম গ্রেড থেকে বঞ্চিত

Card image cap

বাগেরহাটের শরনখোলা উপজেলা হিসাব রক্ষন কর্মকর্তার খামখেয়ালী পনার কারণে ৩ মাস ধরে সরকারী বর্ধিত বেতনের অংশ পাচ্ছেন না উপজেলার শতাধিক বিদ্যালয়ের প্রায় পাঁচশত শিক্ষক।  এ ঘটনায় বঞ্চিতদের মাঝে অনেকটা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।  তারা হিসাব রক্ষন কর্মকর্তার এমন আচারণের বিষয়টি ইতিমধ্যে বাগেরহাট-৪ আসনের সাংসদ, শরনখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা চেয়ারম্যানকে সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত ভাবে অবহিত করেও কোন প্রতিকার পাননি বলে অভিযোগ করেন ওই সকল শিক্ষকরা । 

জানাগেছে, ২০১৯ সালে দেশ ব্যপী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তাদের উন্নিত গ্রেড -স্কেল পাওয়ার দাবীতে আন্দোলন শুরু করেন।  তার ধারাবাহিকতায় ২০২০ সালের ৯ ফেব্রুয়ারী দেশের সকল বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের ১৩তম গ্রেডে উন্নিত করার নির্দেশ দেন প্রাথমিক ও গন-শিক্ষা মন্ত্রালয়।  কিন্তু সরকারী ওই নির্দেশকে বৃদ্ধা আঙ্গুলী দেখিয়ে শরনখোলা উপজেলা হিসাব রক্ষন কর্মকর্তা জি এম নুরুল  আমিন উপজেলার চার ইউনিয়নের ১১৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় পাঁচশত শিক্ষককে নানা ভাবে হয়রানি শুরু করেন।

উপজেলার ২১ নং- রায়েন্দা মড়েল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রদীপ কুমার ভৌভিক, ১৫নং রাজৈর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. ছদরুল হাসান, ৭৫নং উত্তর খোন্তাকাটা সরকারী প্রা.বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. শাহ-জামান, ৩০ নং বগী সরকারী প্রা.বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. মেহেদী হাসান সেতু সহ উপজেলার বহু শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, মন্ত্রনালয়ের নির্দেশের পর বাগেরহাট জেলার অন্যান্য উপজেলায় ইতিমধ্যে ১৩ তম গ্রেডের কাজ সমাপ্ত করা হয়েছে এবং উপকার ভোগীরা এর সু-ফল পাচ্ছে। 

অথচ শরনখোলা উপজেলার সকল সহকারী শিক্ষকরা তাদের উন্নিত গ্রেড পেতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপজেলা হিসাবরক্ষন কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দিলেও তিনি গত ৩ মাস ধরে নানা অজুহাতে কাল ক্ষেপন করে চলছেন । সর্বশেষ গত ৬ জুন আমরা তার অফিসে গেলে তিনি আমাদের সাথে অসদাচারণ করে বলেন আপনারা আমার বিরুদ্ধে যা পারেন করেন আমি কারও নির্দেশ পালন করতে বাধ্য নই।  তবে নাম গোপন রাখার শর্তে, এক শিক্ষক বলেন, আমরা শিক্ষকরা নানা ভাবে উপজেলা হিসাব কর্মকর্তার হয়রানির শিকার হচ্ছি।  টাকা ছাড়া সেখানে কোন কাজ করা যায় না।  বলা যায় উপজেলা হিসাব কার্যালয়টি এক প্রকার দুর্নীতির আখড়ায় পরিনত হয়েছে। 

সম্প্রতি ওই কর্মকর্তা একটি দালাল চক্রের মাধ্যমে গ্রেড উন্নতির কাজের জন্য প্রত্যেক শিক্ষকের কাছে এক হাজার করে টাকা ঘুষ দাবী করেন।  ওই চক্রের দাবী না মানায় আমরা গত তিন মাস ধরে নানা ভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছি।  উক্ত বিষয়টি সমাধানের জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। 

পাশাপাশি দুর্নীতিবাজ ওই হিসাব কর্মকর্তার অপসারন দাবী করছি।  তাছাড়া ওই কর্মকর্তাকে ঠিক মতো অফিসে পাওয়া যায় না।  তিনি তার খেয়াল খুশি মতো অফিস করেন।  তার ওই সব অনিয়মের কথা এমপি, ইউএনও এবং উপজেলা চেয়ারম্যান সহ অনেকের কাছে বলেও কোন প্রতিকার পাইনি।  তবে এসব বিষয়ে, জানতে চাইলে হিসাব রক্ষন কর্মকর্তা জি এম নুরুল আমিন মুঠোফোনে বলেন, ওই শিক্ষকদের সকল অফিযোগ ভানোয়াট।  তাছাড়া আমার অফিসে কাজের খুব চাপ রয়েছে এবং গ্রেড উন্নতির বিষয়টি কিছু দিন পরে করলেও কোন সমস্যা নাই কারন ওই শিক্ষকরা বকেয়া সহ সকল সুবিধা পাবেন। 

তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহিন জানান, ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষকরা একটি অভিযোগ আমার কাছে জমা দিয়েছেন।বিষয়টির তদন্ত করে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
 

google add
 
google adds
google adds