বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন, ২০২১,  ৩ আষাঢ় ১৪২৮,  Thursday, June 17, 2021


দ্যা বাংলা টাইম

আপডেট : 1 week ago

Tue, Jun 8, 2021 2:32 PM

 

শরনখোলায় দিনমজুরকে ফাঁসাতে ব্যস্ত ব্যাংক কর্মকর্তারা

Card image cap

বাগেরহাটের শরনখোলায় ব্যাংক কর্মকর্তা সহ এক সৎ ভাইয়ের কারসাজিতে দিন মজুররের কাঁধে ব্যাংক ঋণের বোঝা চাঁপানোর চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।  তবে মিথ্যা ওই ঋণের বোঁঝা থেকে দ্বায়মুক্ত হওয়া সহ ঘটনাটির সুষ্ট তদন্ত করে জালিয়াত চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী করেছেন ওই ক্ষতিগ্রস্ত দিনমজুর। 

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, উপজেলার খোন্তাকাটা ইউনিয়নের নলবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা মৃত মো. চাঁন মিয়া আকনের প্রথম সংসারের ছেলে সহজ-সরল দিনমজুর মো. শাহজাহান আকন (৬৩) এর নামে একাধিক ভুয়া দলিলের অনুকুলে যাচাই-বাঁচাই ছাড়াই ২০১৯ সালের জানুয়ারী মাসে ২লাখ ৩৫ হাজার টাকা কৃষি ঋণ সরবারহ করেন বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক রায়েন্দা বাজার শাখা কর্তৃপক্ষ।  তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো ঋণ নেওয়ার ঘটনাটি আদৌ জানেন না দিনমজুর শাহজাহান ও তার পরিবারসহ স্থানীয় সচেতন মহলের কেউ।  এমনকি ঋণ বিতরনের প্রায় দেড় বছর পর ব্যাংক থেকে শাহজাহানের বাড়ীতে একটি নোটিশ পাঠানো হয়।  উক্ত নোটিশে তাকে সুদে-আসলে তিন লাখ দশ হাজার টাকা কৃষি ঋণ পরিশোধ করার নির্দেশ দেন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।  এমন খবরে যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়েছে ওই দিন মজুরের পরিবারে। 

শাজাহান বলেন, আমি গরীব মানুষ, আমার কোনো জমি নাই।  দৈনিক কাজ করে যা পাই তা দিয়ে সংসার চলে।  এতো টাকা ঋণ নিয়ে আমি কি করব।  তাছাড়া লোন নেওয়া তো দুরের কথা ব্যাংকের ওই অফিসটি কোথায় তাও আমি চিনি না।  তবে শুনেছি আমার সতালো ভাই মো. মাসুম আকন ব্যাংক হতে বহুবার ঋণ আনছে।  হয়তো আমাকে ফাঁসানোর জন্য সে অফিসারদের সাথে মিলে মিশে এমন গভীর ষড়যন্ত করতে পারেন। 

তার স্ত্রী ফরিদা বেগম বলেন, আমার স্বামী এতো গুলো টাকা ঋণ আনলো আর ব্যাংকের অফিসাররা কোন প্রকার তদন্ত না করেই সরকারী টাকা গুলো দিয়ে দিলো যা আমি তো দুরের কথা আমার ছেলে-মেয়েরাও কেউ জানে না।  এছাড়া ব্যাংকে আমাদের কারো মোবাইল নাম্বার নাই।  স্বাক্ষীর ঘরে আমার সতালো দেবর মাসুমের মোবাইল নাম্বার রয়েছে।  তাই এ ঋণের ঘটনায় কোন রহস্য লুকিয়ে আছে। 

তাদের মেয়ে সোনিয়া আকতার বলেন, বাড়ীতে নোটিশ আসার পর আমরা ব্যাংকে গিয়ে কাগজ পত্র দেখতে চাই এবং একটি ফটো কপি দাবী করি কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, এমন কোন নিয়ম ব্যাংক আইনে নাই।  ধারনা করা হচ্ছে, আমার আব্বুর স্বাক্ষর ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশে জ্বাল করে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে।  এ বিষয়ে স্থানীয় সমাজ সেবক ও আওয়ামীলীগ নেতা মো.আলমগীর হোসেন তালুকদার বলেন, শাহজাহান গরীব মানুষ তার কোন জমি নাই।  সে ক্ষেত্রে সরকারী লাখ লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার সময় ব্যাংক কর্তৃপক্ষদের অবশ্যই খোঁজ-খবর নেওয়া উচিত ছিল।  শাহজাহানের কাছে এখন টাকা দাবী করা মানেই তাকে হয়রানি করা ছাড়া আর কিছুই নয়।

অপরদিকে, নাম গোপন রাখার শর্তে কৃষি ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, ঋণ বিতরনের আগে সংশ্লিষ্ট  শাখার ম্যানেজার সহ মাঠ কর্মকর্তার দ্বায়িত্ব হচ্ছে, ঋণ গ্রহীতার সকল তথ্য সংগ্রহ করা এবং ওই ব্যাক্তির পরিবারের সদস্য কিংম্বা স্থানীয় গন্য-মান্য ২/১জনকে স্বাক্ষী রেখে ঋনের টাকা বুঝিয়ে দেওয়া।  তবে ঋণ গ্রহীতাকে একাউন্ট পে-চেক দেওয়া উত্তম।  ওই দিন মজুরের ক্ষেত্রে এসব নিয়ম উপেক্ষিত হলে সরকারী টাকার দ্ধায়ভার ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখার তৎকালীন কর্মকর্তাদের।

তবে কৃষি ব্যাংক রায়েন্দা বাজার শাখার ম্যানেজার মো. ইব্রাহীম হোসেন জানান, শাহজাহান যদি ঋণ নিয়ে না থাকে সেটা তার প্রমান করতে হবে।  তবে তার লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নিতে পারি।  এছাড়া মাসুম সহ ঋণ বিতরনকারী তৎকালীন কর্মকর্তার কোনো যোগসাজশ রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে ওই তিন জনকে শীঘ্রই মুখোমুখি করা হবে।

google add
 
google adds
google adds