বুধবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২২,  ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯,  Wednesday, November 30, 2022


দ্যা বাংলা টাইম ডেস্ক, ছবিঃ সংগৃহীত

আপডেট : 5 months ago

Sat, Jun 25, 2022 12:46 PM

 

পদ্মা সেতু খুলবে নতুন যুগের দুয়ার

Card image cap

বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে দীর্ঘ টানাপড়েন আর তিক্ততার পর ঠিক দশ বছর আগে শেখ হাসিনাই সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন- ঋণ নয়, পদ্মা সেতু নির্মণ করা হবে বাংলাদেশের মানুষের টাকায়। ঠিক ২ হাজার ৩৮৭ দিন আগে তিনিই পদ্মাপাড়ে বিপুল নির্মাণযজ্ঞের উদ্বোধন ঘোষণা করেছিলেন। 

বাংলাদেশকে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ দেশের কাতারে নিয়ে যাওয়ার যে স্বপ্ন শেখ হাসিনা বাংলাদেশের মানুষকে দেখিয়ে আসছেন, সেখানে পৌঁছাতে হলে মাথপিছু আয় হতে হবে বছরে ১২ হাজার ৫৬ ডলারের বেশি, যা এখন ২ হাজার ৮২৪ ডলার।

পাশাপাশি আগামী দিনগুলোতে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে হবে দুই অংকের ঘরে, যা দুই বছর আগে ছিল ৮ শতাংশের বেশি, মাঝে মহামারীর কারণে কিছুটা পিছিয়ে পড়লেও আবার পুরনো গতিতে ফেরার পথে রয়েছে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলার স্বপ্ন বাস্তবায়নে এই পদ্মা সেতুর বড় ভূমিকা থাকবে বলেই সরকারের কর্তাব্যক্তিদের বিশ্বাস।

বাংলাদেশে সাতশর বেশি নদনদী থাকলেও পদ্মা, ব্রক্ষ্মপুত্র-যমুনা ও মেঘনা অববাহিকা দিয়ে এ দেশ চার ভাগে বিভক্ত। ওই তিন অববাহিকার সীমা ধরেই বাংলাদেশ মানুষ উত্তর, পূর্ব, উত্তরপশ্চিম ও দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চল চেনে।

মেঘনা সেতু, মেঘনা-গোমতি সেতু, মেঘনার ওপর ভৈরব সেতু, যমুনার ওপরে বঙ্গবন্ধু সেতু এবং কুষ্টিয়ার ওপরে লালন শাহ সেতু (হার্ডিংঞ্জ ব্রিজ) রাজধানীর সঙ্গে দেশের উত্তর, পূর্ব ও উত্তরপশ্চিম অঞ্চলের মানুষের চলাচল ও পণ্য পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

কিন্তু দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে এতদিন বিভক্ত করে রেখেছে পদ্মা নদী। ফলে ফেরি বা লঞ্চে নদী পার হয়ে এ অঞ্চলের মানুষকে ঢাকায় যাতায়াত করতে ব্যয় করতে হয় দীর্ঘ সময়। গরমের সময় দূরের পথের পণ্য ট্রাকেই পচে যায় অনেক সময়। 

সেই দুর্দশার অবসান ঘটাতে উদ্বোধনের পরদিন থেকেই গাড়ি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে পদ্মা সেতু। এ দিনটির জন্য দক্ষিণ জনপদের মানুষের অপেক্ষা বহু দিনের। 

পদ্মা সেতুর কারণে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ১৬ জেলা এবং ঢাকা বিভাগের ৬ জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থায় আসবে আমূল পরিবর্তন। পণ্য পরিবহনে সময় কমে আসবে বলে কৃষি উৎপাদন ও বিপণনে আসবে নতুন জোয়ার। সেতু দিয়ে ট্রেন যাবে, যাবে গ্যাস। তাতে শিল্প-কারখানার জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানির যোগান হবে।

খুলনা থেকে মোংলা বন্দর পর্যন্ত ৫০ কিলোমিটারের বেশি যে মহাসড়কটি রয়েছে, তার দুই পাশের অধিকাংশ জমি বিক্রি হয়ে গেছে। শিল্প কারখানা স্থাপন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়- এমন নানা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে কাজে লাগানো হবে এসব জমি।

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বন্দরনগরী খুলনার এ মহাসড়কটিই শুধু নয়, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলাতেই জমির দাম বাড়ছে হু হু করে, পর্যটনকেন্দ্রগুলো সাজছে নতুন করে, নতুন নতুন কারখানা গড়ে উঠছে। সড়ক ব্যবস্থা যেমন বদলাচ্ছে, তেমনি কর্মসংস্থান বৃদ্ধির নানা উদ্যোগ সৃষ্টি হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

শিল্পে পিছিয়ে থাকা দক্ষিণবঙ্গে নতুন কারখানা খোলার মানে হল, তার প্রভাবে ব্যস্ততা বাড়বে পায়রা বন্দর, মোংলা বন্দর আর বেনাপোল স্থলবন্দরে।

পাশাপাশি রাজধানী এবং বন্দর নগরী চট্টগ্রামের সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে। যাতায়াত সহজ হলে পর্যটনে আসবে নতুন প্রাণ। কেবল দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল নয়, পুরো বাংলাদেশের অর্থনীতিই বদলে যাবে।

বর্তমানে মোট দেশজ উৎপাদনের ২১ শতাংশের যোগান আসে দক্ষিণ-পশ্চিমের এই ২১ জেলা থেকে। আর তাতে মূল ভূমিকা কৃষির। 

২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশে মোট উৎপাদিত পাটের ৬০ শতাংশ, গমের ২৮ শতাংশ, ধানের ২৩ শতাংশ এ অঞ্চলেই উৎপাদিত হয়েছে। পেঁয়াজ, সবজি ও ফল উৎপাদনেও এ অঞ্চলের অবদান গুরুত্বপূর্ণ।

২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশে ৩৮ লাখ মেট্রিক টনের বেশি মাছ উৎপাদন হয়ছে, যার ৩২ শতাংশের যোগান দিয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল। আর সারাদেশে চিংড়ির যোগানের প্রায় ৯০ শতাংশ শুধু খুলনা বিভাগ থেকেই আসে।

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের ২০২০ সালের একটি প্রতিবেদন বলছে, পদ্মা সেতু চালু হলে এসব জেলার জিডিপি বাড়বে ২ দশমিক ৩ শতাংশ। আর তাতেই পুরো দেশের জিপিডি ১ দশমিক ২৩ শতাংশ বাড়বে। 

শুধু একটি সেতু যে দেশের মোট জনগোষ্ঠীর ২১ দশমিক ১৫ শতাংশের জীবন-মান আমূল পাল্টে দিতে চলেছে, এ বিষয়ে সন্দেহ সেই অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের।

পদ্মা সেতু নিয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদনে জাপানের বিদেশি অর্থায়নকারী সংস্থা জাইকা বলেছিল, “বহুল আকাঙ্ক্ষিত পদ্মা সেতু হলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে রাজধানীর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করবে এবং অপেক্ষাকৃত পিছিয়ে থাকা দেশের ওই অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত করবে।”