মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২১,  ৪ কার্তিক ১৪২৮,  Tuesday, October 19, 2021


দ্যা বাংলা টাইম

আপডেট : 1 week ago

Mon, Oct 11, 2021 6:23 PM

 

সুপারস্টার শাহরুখ খান: যার নীরবতাও বিক্রি হয়

Card image cap

এই কদিন ধরে ভারতীয় টিভি চ্যানেল, সোশ্যাল মিডিয়া আর অন্যান্য সব মাধ্যমে যেন একটাই নাম আর তা হল শাহরুখ খান। গত ২ অক্টোবর মুম্বাইয়ের একটা ক্রুজ শিপ থেকে মাদক সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তাঁর ছেলে আরিয়ান খান গ্রেপ্তার হবার পর থেকে ভারতীয় মিডিয়া একটাই নিউজ আর তা হল শাহরুখ খানের ছেলে আরিয়ান খান মাদক সহ গ্রেপ্তার।  

যদিও ওই দিন আরিয়ানের সাথে গ্রেপ্তার হয়েছিল আরও অনেকে, এনসিবি তথ্যে ৮ জন ছিল। আর ভারতীয় আইন অনুযায়ী আরিয়ান খান একজন প্রাপ্ত বয়স্ক (২৩ বছর) হবার পরও তার নামের সাথে বার বারই আসছিল শাহরুখ খানের নাম। অনেকেই বলছেন ঘটনা যায়ই হোক না কেন এখানে যে বিষয়টা জড়িত তা হল বলিউড কিং শাহরুখ খান। কারণ অনেকেই মনে করছেন, একই সময়ে ভারতে চলছে কৃষক আন্দোলন, শচিন টেন্ডুলকারের পাণ্ডরা পেপারস এস্কান্ডালে নাম আশার ঘটনা, মন্ত্রীর ছেলের গাড়িতে কৃষকে হত্যা এবং কয়েকদিন আগে আদানি পোর্টে থেকে ৩০০০ কেজি মাদক উদ্ধার হবার মত ঘটনা, যে সমস্ত ঘটনাকে আড়াল করার জন্য এই একটা নামীই যথেষ্ট। 

এরই মধ্যে সময়ে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ছিল মহারাষ্ট্রের সরকারের মন্ত্রীর এক বক্তব্য। আরিয়ান খানের সাথে জেরা চলাকালীন সময়ে এক সেলফি নিয়ে যার শুরু। এনসিপি মুখপাত্র মহারাষ্ট্রের অ্যাফেয়ার্স মিনিস্টার নবাব মালিক জানালেন এটা একটা সাজানো নাটক এবং ওই দিন ক্রুজ থেকে কোন মাদক কোন উদ্ধার হয়নি। আর যে লোকটা আরিয়ানের সাথে সেলফি তুলেছেন সে এনসিবি এর কোন সদস্য নন। মন্ত্রী সাংবাদিকদের কাছে জানান, ‘এই অভিযান ছিল ভুয়া। প্রমোদতরিতে তাঁরা কোনো মাদক পায়নি।’ তিনি জানান 'শাহরুখ খান'কে টার্গেট করা হয়েছিল এবং তার বিরুদ্ধে প্রপোকাণ্ডা ছড়ানোর উদ্দেশ্যে এটা করা হয়েছে, আর তারই ফল এই অভিযান। এর পর এই বিষয়ে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তিনি একে একে অনেক প্রমাণ সামনে আনেন যা মাত্র ৩ দিন আগে নায়ক বনে যাওয়া এনসিবি অফিসার সমীর ওয়াংখেড়ের সাহসী পদক্ষেপের পিছনে একটা সাজানো গল্পের অবয়ব উঠে আসে। মন্ত্রী কিছু ভিডিও দেখান যেখানে একই রাতে গ্রেপ্তার হওয়া আরও তিন জনকে রাজনৈতিক পাওয়ার ব্যবহার করে কেমন করে রাতের অন্ধকারে ছেড়ে দেন সমীর ওয়াংখেড়ে। তিনি জানিয়েছেন, মুম্বাইয়ের রাজ্য সরকার আর মাদক আর বলিউডকে জড়িয়ে মহারাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এক বড় ষড়যন্ত্র করছেন দিল্লী সরকার। তাঁর এসব বক্তব্য ও ভিডিও সামনে আশার পর এসব নিয়ে জল ঘোলা হচ্ছে অনেক, এনসিবি থেকেও বলা হয়েছে, তারা আইনের মধ্যেই সব কাজ করেছেন। একই সাথে, মুম্বাই পুলিশকে এই ব্যপারে নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশও দিয়েছেন রাজ্যমন্ত্রী।

আর এসব বিষয়ে পক্ষে বিপক্ষে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। অবশ্যই ভারতে যেহেতু যে কোন বিষয় নিয়েই কোন না কোন ভাবে ধর্মীয় ভাবে টানাটানি শুরু হয়, আর একইভাবে এই ঘটনাতেও তাই শুরু হয়ে গেলো, যা এখনও চলছে। একই ভাবে চলছে রাজনৈতিক অনেক নেতাদের টুইট, যেসব টুইট থেকে আসতে থাকে শাহরুখ খানকে বয়কটের বার্তা, তাঁর বিজ্ঞাপন বন্ধ, ছবি বয়কটের হুমকি আরও কত কিছু। যা নিয়ে এখনও চলছে পক্ষে-বিপক্ষে টুইট। তবে এভাবে সোশ্যাল মিডিয়াতে এসব ঘৃণা ছড়ানোর বিরুদ্ধে অনেকেই কথা বলতে দেখা যাচ্ছে। কোর্টের রায়, পুরো কেসের বিষয়েও অনেক আইনজীবীও মতামত দিয়েছেন যেখানে বলা হচ্ছে পুরো আটক প্রক্রিয়া বেআইনি।  আইনের ধারা উল্লেখ করেই বলছেন সবাই। সেই সাথে শাহরুখ খানের অগণিত ভক্ততো সক্রিয় রয়েছেই। 

তবে সবকিছু ছাড়িয়ে যে প্রশ্নটি এখন অনেকেই করছেন তা হল, শাহরুখ চুপ কেন? একজন সাংবাদিকে লিখেছেন, এতো কিছুর পরও কিভাবে চুপ থাকতে পারে একজন মানুষ। তিনিই আবার জবাবে লিখেছেন, 'এটাই মনে হয় স্টারডম। শাহরুখ খান যে একজন সুপারস্টার এটাই তার প্রমাণ'।  তবে তিনি তো একজন পিতাও, এমন একজনের টুইটের জবাবে আরেকজন লিখেছে, 'পিতা অবশ্যই সেই জন্যই সম্ভবত ছেলের সাথে নিজেকেও বন্দী করে রেখেছেন।' তবে মিডিয়াতে এতো ক্ষমতা থাকার পরও তিনি আইনি যে প্রক্রিয়াতে লড়ে যাচ্ছেন সে জন্য অনেকই শাহরুখের প্রশংসা করছেন। অনেকে আবার সত্যিকারের ভারতীয় হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলছেন, দেশের প্রচলিত আইনের প্রতি শাহরুখ খানের এই সম্মান সাধারণের জন্য অনেক বার্তা বহন করবে। 

তাই বলে এতোটা নীরব কিভাবে থাকলেন শাহরুখ? তাঁর পারিবারিক এক বন্ধু জানিয়েছেন, ভিতরে ভিতরে অনেক কষ্ট পাচ্ছেন শাহরুখ, ঘুমোতে পেরছেন না। কাজ সহ সব কিছুতেই মনোযোগ হারিয়েছেন তিনি। সেখানে অনেকেই বাবা হিসেবে শাহরুখ খানকে নিয়ে আবেগি মন্তব্য করেছন। অনেকেই সময়ের কথা বলেছেন। যে প্রশ্নের উত্তর এখন নেই তা হয়ত কখনো নিজেই বলবেন কোন অনুষ্ঠানে এমন অনেক মন্তব্য করেছে শাহরুখ ভক্তরা।

এ নিয়ে টুইটারে মিডিয়ার আর বলিউড নিয়ে কাজ করা একজন সাংবাদিক লিখেছেন, শাহরুখ খানের এই নীরবতাও ব্যবসা। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন, এই চুপ থাকাকে বিভিন্ন নিউজ মিডিয়া ভিন্ন ভিন্ন ভাবে ব্যাখ্যা করছে, বিভিন্ন রকম আলোচনা- টক শো চলছে, সোশ্যাল মিডিয়াতে বিভিন্ন ব্লগ তৈরি হচ্ছে, চলছে বিশাল এক বাণিজ্য। তাই ভারতীয় পিআর কোম্পানিগুলোও ব্যস্ত হয়ে পড়েছে শাহরুখ আর আরিয়ান খানকে নিয়ে। যেখানে আড়াল পড়ছে দেশের অনেক বড় সমস্যাও। 

এদিকে দুবাইয়ের শারজায় চলছে আইপিএল যেখানে তাঁর টিম 'কেকেআর' লড়াই করছে। যে মানুষটা সবসময় তাঁর টিমের জন্য প্রাণপন কাজ করেন সেই টিমের জয়-পরাজয়েও শাহরুখ চুপ। শুটিংয়ের কয়েকটি শিডিউল পরিবর্তন করেছেন। স্পেনে তাঁর পরবর্তী ছবি পাঠানের একটি টিম কাজ করছে। আর এসব ঘটনার পেক্ষিতে শাহরুখের বর্তমান  ব্যান্ডভ্যালু কমছে না বাড়ছে তা নিয়ে হিসেব চলছে। 

অন্যদিকে, শাহরুখ খানের বাড়ি 'মান্নাত' এর সামনে সাংবাদিকসহ তাঁর ভক্তদের ভিড় লেগেই যাদের নিয়ন্ত্রণে বসানো হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ। 

হয়ত এই একই নিউজ চলবে আরও দুদিন, কিংবা আরও বেশি। আগামী বুধবার আরিয়ানের পরবর্তী জামিনের তারিখ। পিআর সহ সবাই অপেক্ষা করছে, জামিন মেলে কিনা। এরপর হয়ত সামনে আনা হবে অন্য কোন নতুন টপিক।

তথ্য ও ছবি, টুইটারের পোষ্ট এবং নিউজ।